টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক

টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক

টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক
টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক – সংগৃহীত

        দু্নীতি নিয়ে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তারা যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে রিপোর্টে ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার থাকতে হবে।  এই হয়েছে, সেই হয়েছে, এমনটা বললে আমরা কী করতে পারব? বরং দুর্নীতি কে করেছে, তা উল্লেখ করলে ব্যবস্থা নিতে পারব।’ মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের নিজ কার্যালয়ে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিআইবিকে অনেক আগে থেকে বলে আসছি, আপনারা কোন পদ্ধতিতে দুর্নীতির সুচক তৈরি করেন। কোনোবারই তারা উত্তর দিতে পারেননি। এবার তারা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেখানে আগের চেয়ে দুর্নীতি বেড়েছে বলা হয়েছে।  দেশের মানুষ দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের রিপোর্টে দুর্নীতি বাড়ার কারণ কী আর কী ব্যবস্থা নিলে দুর্নীতি কমবে, এগুলো উল্লেখ না থাকলে সে রিপোর্ট আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করব না। টিআইবি বলছে দুর্নীতি বেড়েছে, এটা ভালো। কারণগুলো, কোন প্রেক্ষাপটে বেড়েছে সেগুলো থাকতে হবে।’

টিআইবির সাথে দুদকের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাইব, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, জনসচেতনতা বেড়েছে। সেই অনুযায়ী টিআইবি রিপোর্ট তুলে ধরুক।’

টিআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক রাঘব বোয়ালকে আমরা ধরতে পারিনি ঠিকই, তবে চেষ্টা করছি বিকল্প ব্যবস্থা নিতে। কেউ বিদেশে বসে থাকলে তাকে ধরা যায় না।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৮’ প্রকাশ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম স্থানে। ২০১৭ সালে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭ তম। ২০১৮ সালে দুর্নীতি বেশি হওয়ায় ৪ ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দুর্নীতির ধারণা সূচকে ১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর হিসাবে বিবেচনা করলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমে হয়েছে মাত্র ২৬। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই স্কোর দুর্নীতির ব্যাপকতায় উদ্বেগজনক।
   অর্থপাচার সম্পর্কে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এক বছরে দেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে পত্রিকায় একটি নিউজ হয়েছে, সেটি আমলে নিতে গিয়ে দেখতে পাই কে কীভাবে কোথায় টাকা পাচার করেছে, তার কোনো হদিস নেই। মহাসমুদ্রে কাকে খুঁজব? এ রকম রিপোর্টের কোনো আগামাথা নেই। মনগড়া বক্তব্য লিখলেই হবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেউ কেউ বায়াস্ট হয়েও লেখে। কাউকে ধরতে গেলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুদক আইন অনুযায়ী আমরা সব জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গত কিছু দিন আগে বিদেশে পলাতক লুৎফর রহমান বাদলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছি। লন্ডনে বা বিদেশে বসে থাকলে তো কাউকে ধরতে পারব না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সব জায়গায় বিরাজ করছি। অনুসন্ধান করছি। এতে আমাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল পরিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইন আছে, দণ্ডবিধি আছে, কোথায় কী করতে হবে, তা জানি। না জেনে স্কুলে অভিযানে যাইনি। তফসিলভুক্ত কাজের মধ্যেই পড়ে এটি। অনেকে টকশোতে বলেন, এটা দুদকের কাজ নাকি? যারা বলেন, তারা দুদকের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে মামলা করুক। সেখানে আইন দেখানো হবে। আদালত ব্যবস্থা নেবে।’
দুদকের মামলায় টাঙ্গাইলের জাহালম নামে এক যুবক অন্যের হয়ে জেল খাটছেন, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। যখনই আমরা জানতে পেরেছি, তখনই বিষয়টি চিহ্নিত করেছি। আমরা আদালতকেও বিষয়টি বলেছি। কোনো আসামিকে তো আমরা শনাক্ত করি না। মামলার বাদী জাহালমকে ছালেক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ জাহালমকে ছালেক হিসেবে ধরেছে।’
এ জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় ত্রুটিকে দায়ী করে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করা হয়েছে, পুলিশ ভূল করেছে, বাদি ভূল করেছে, দুদকের দায় থাকতে পারে। উচ্চ আদালত আমাদের ডেকেছেন। আমরা নিশ্চয়ই যাবো।  জাহালমের মুক্তির পর আমরা এটি তদন্ত করব।’ কারা এর সাথে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে: জিএফআই

৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে: জিএফআই

বিবিসি বাংলা
২৯ জানুয়ারি ২০১৯

taka৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে – ছবি : সংগ্রহ

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বলছে, ২০১৫ সালে বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এটি প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার সমপরিমান।

বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সময় এ কারসাজি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য-আমদানি রপ্তানিতে কারসাজির মাধ্যমে কিভাবে অর্থ পাচার হয়ে গেছে, তার একটি চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ থেকে টাকা বেরিয়ে গেছে দুইভাবে – একটি উপায় হচ্ছে, পণ্য আমদানির সময় কাগজপত্রে বেশি দাম উল্লেখ করে টাকা পাচার, আরেকটি হচ্ছে, পণ্য রপ্তানি করার সময় কাগজপত্রে দাম কম দেখানো।

রপ্তানির সময় কম দাম দেখানোর ফলে বিদেশী ক্রেতারা যে অর্থ পরিশোধ করছে, তার একটি অংশ বিদেশেই থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আসছে শুধুমাত্র সেই পরিমান অর্থ, যে পরিমান অর্থের কথা দেখানো হচ্ছে অর্থাৎ কাগজপত্রে যে দাম উল্লেখ করা হয়েছে সেটা।

জিএফআই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পায় সেটির প্রায় তিনগুণ টাকা পাচার হয়েছে ২০১৫। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ড. ভট্টাচার্য বলেন, শুধু উন্নত দেশের সাথে বাণিজ্যের ভিত্তিতে এ পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে থেকে বেরিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘বেশি দামের জিনিসকে কম দাম দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটার ভিত্তিতে কম টাকা দেশের ভেতরে আসছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দাম দেখিয়ে রপ্তানি করা হলেও টাকা আদৌ দেশের ভেতরে আসেনি।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এভাবেই অর্থ বেরিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দাম কম-বেশি যেমন দেখানো হয়, আবার পণ্যের মান এবং পরিমাণের ক্ষেত্রেও কারসাজি করা হয় – এমন কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বাণিজ্যের মাধ্যমে কারসাজি করে অর্থ পাচারের তালিকায় বিশ্বের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। অনেক সময় পণ্য আমদানি-রপ্তানির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে খালি কন্টেইনার আসা-যাওয়া করেছে, এমন উদাহরণও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা বিদেশে প্রয়োজনের জন্য যতখানি না নিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি হলো ওনারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, ওনারা শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছেন।’

দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে অনেকে দীর্ঘমেয়াদী কিংবা মধ্যমেয়াদী অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজির সুরক্ষার জন্য অন্যত্র টাকা রাখছেন বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

তবে এই তালিকায় অর্থ পাচারের যে চিত্র দেখানো হচ্ছে বাস্তবে অর্থ পাচার তার চেয়ে অনেক বেশি বলেই আশঙ্কা করা হয়।
জিএফআই বলছে তারা যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে সেটি খুবই কম হিসেব, কারণ তারা যতটুকু আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পেয়েছে সেটির ভিত্তিতে অর্থ পাচারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক কারসাজি হয় যেগুলোর প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। একই কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুর। তিনি বলেন, শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যান দিয়ে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ জানা সম্ভব নয়। বাণিজ্য কারসাজির বাইরে একটি বড় অংকের টাকা দেশ থেকে পাচার হয় হুন্ডির মাধ্যমে এবং এর কোন পরিসংখ্যান নেই বলে ড. মনসুর উল্লেখ করেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে টাকা নিতে চায়, তাহলে বাড়ি বিক্রেতা তার টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীকে দিয়ে দেবে। একই পরিমাণ বিদেশী মুদ্রা বিদেশে অবস্থানরত আরেকজন হুন্ডি ব্যবসায়ী বাড়ি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে।

তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে টাকা পাচার করে কারণ তারা সেটি দেশে ভোগ করতে পারছেন না। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেও অনেকে টাকা পাচার করে বলে উল্লেখ করেন ড. মনসুর।

জামিনে মুক্তি পেলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল

জামিনে মুক্তি পেলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

ব্যারিস্টার মইনুল

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন

২৮ জানুয়ারি ২০১৯

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মানহানির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পর জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি।
গত রাত ৯টায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

ঢাকার জেলার মাহবুবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মইনুল হোসেন। সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার মধ্যে এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ২০টির মতো মামলা হয়।
এরপর ২২ অক্টোবর রংপুরের এক মানহানির মামলায় মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। মানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোববার জামিন পেয়েছেন।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোমানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রোববার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুদ রানা।

খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায় এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তরে’ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

এরপর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। তবে রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।| রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রোববার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সাথে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা।

খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায় এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তরে’ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

এরপর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। তবে রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

চলছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের ভোটগ্রহণ

চলছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের ভোটগ্রহণ

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন
২৭ জানুয়ারি ২০১৯


স্থগিতকৃত গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঐক্যফন্ট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী জাপার (জাফর)

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী গত ২০ ডিসেম্বর মারা গেলে এ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সাদুল্যাপুরের ১১টি ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। এ জন্য ১৩২ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৭৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও এক হাজার ৫৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মোট ভোটার চার লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৭৪৬ জন এবং মহিলা দুই লাখ ১১ হাজার ১০৮ জন।

এ উপলক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার সব ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এই দুই উপজেলার সব সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাও বন্ধ থাকবে।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, নির্বাচনের দিন দুই উপজেলায় দুই হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, বিজিপি ২০ প্লাটুন, র্যাব ২০ প্লাটুন ও এক হাজার ৫৮৪ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মইনুল হাসান সাদিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন; কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন গত ১০ জানুয়ারি ভোট কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কায় সাদিকসহ বাসদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এখন ভোটের লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন মহাজোটভুক্ত আ’লীগ প্রার্থী ডা: ইউনুস আলী সরকার (নৌকা), জাপা (এ) প্রার্থী দিলারা খন্দকার (লাঙ্গল), জাসদ প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (মশাল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিজানুর রহমান তিতু (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো: জাহিদ (সিংহ)।

মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার লাশের গলায় ঝোলানো, ‘ধর্ষণের কারণে আমার এই পরিণতি

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন

২৭ জানুয়ারি ২০১৯

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ধর্ষণ মামলার এক আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘ধর্ষণের কারণে আমার এই পরিণতি।’

কাঁঠালিয়া থানার ওসি এনামুল হক জানান, শনিবার বেলা ২টার দিকে বলতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সজলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় সুতা দিয়ে ঝুলানো একটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার নাম সজল মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কারণে আমার এই পরিণতি’।

নিহত সজল জোমাদ্দার (২৮) পাশের জেলা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি পিরোজপুরের ভন্ডারিয়া উপজেলায় গ্রামের বাড়ি থেকে পাশের হেতালিয়া গ্রামে নানাবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পথে এক মাদরাসা ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে পানের বরজে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সজলের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ভান্ডারিয়া থানায় সজলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকে উভয় আসামি পালাতক ছিলেন বলে জানান ভন্ডারিয়া থানার এসআই তারিকুল। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এধরণের ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তোলে ধরছেন সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের ডাক মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই : মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের ডাক মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই : মির্জা ফখরুল

বিএনপি
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল – ছবি: সংগৃহীত

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন তা মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদে যেতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সম্পর্কে বলেন, বিএনপি ও জোট ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমি শুনেছি। তার বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে তিনি একটা ‘গিল্টি কনসেন্স’ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন। কেন জানি তার মনে হয়েছে, নির্বাচনটা ঠিক হয়নি, একটা ব্যাখা দেওয়া প্রয়োজন। সেই ব্যাখাটি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিএনপি কেন ভালো করতে পারলো না, কেন তারা (আওয়ামী লীগ) এতো ভালো করলেন। সাধারণত আমরা কি দেখি? একটা নির্বাচনের পরে এই ধরনের কথা কেউ আনে না। যে প্রতিপক্ষ কেন পরাজিত হলো। উনি বিএনপির ব্যাপারে অনেকগুলো কথা বলেছেন, তার চিন্তা-ভাবনা থেকে। আসল প্রকৃত ঘটনাতে কেন কেউ যেতে চাচ্ছে না। কারণ ভয়ে, মিডিয়াও বলছে না। অন্যান্য সবাইও বলতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন পলিটিক্যাল এরিয়া থেকে যে সমস্ত বক্তব্য এসেছে, যেসব রিপোর্ট এসেছে, তাতে করে প্রমাণিত হয়ে গেছে এই নির্বাচন কোনো নির্বাচনই হয়নি। এটা জাতির সাথে কঠিন তামাশা হয়েছে। যে কথাটি আমরা বারবার বলেছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এই নির্বাচন বাংলাদেশের একটি বড় রকমের ক্ষতি করে দিয়েছে দীর্ঘস্থায়ীভাবে। এই নির্বাচনের ফলে মানুষের নির্বাচন প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে আস্থা চলে গেছে। নির্বাচন কমিশনের উপর থেকেও আস্থা চলে গেছে। এই নির্বাচনের ফলে রাষ্ট্রের উপর থেকেও আস্থা চলে যাচ্ছে এ জন্য যে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন এজেন্সিগুলোকেও ব্যবহার করা হয়েছে। সামগ্রকিভাবে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। যেটা আওয়ামী লীগ করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু আমি নই, দেশের সব ধরণের সচেতন মানুষ মনে করে, এই নির্বাচন কোনো নির্বাচনই হয় নাই। যে কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সব দল নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখান করেছি। পুনরায় একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন দাবি করেছি। সেই নির্বাচনে জনগণ যেন তাদের রায় দিয়ে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছি। মূলকথা হচ্ছে উনি (প্রধানমন্ত্রী) যে ফিরিস্তিগুলো দিয়েছেন, ওনার ইশতেহার এবং কাজের ফিরিস্তি দিয়েছেন, সেখানেও বিরাট রকমের গড়মিল রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও বলেছি, যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে এটা পুরোপুরি একটা ধোঁকার উন্নয়ন। কিছু মানুষ অত্যন্ত ধনী হচ্ছে, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে যে দেশে ধনীর সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গেছে। আর গরীব আরও গরীব হচ্ছে। প্রতিটি দ্রব্যমূল্যে বেড়েছে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নিচে চলে যাচ্ছে। জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিনিয়োগের কোনো নিরাপত্তা নেই। ব্যাংকে যারা টাকা রাখছেন, তারা দেখছেন বিভিন্নভাবে তাদের টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। দুর্নীতি এমন ভাবে বেড়েছে, যা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্নও করতে পারে না। পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। সেটা করার জন্য এই ধরণের নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের ডাক ও বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দানের আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে উনি যে ডাক দিয়েছেন তা মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন আগে তিনি যখন আমাদের সাথে সংলাপ করেছেন, তখন তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো কি রাখতে পেরেছেন? একটাও রাখতে পারেননি। অর্থাৎ রাখেননি। তিনি বলেছিলেন, কোনো গ্রেফতার হবে না। নতুন কোনো মামলা হবে না। এর একটাও তারা রাখেননি। নির্বাচনের একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার কথা ছিল তাও করেননি। একইভাবে আজকে যে কথাগুলো তিনি বলছেন, তাও কথার কথা। এগুলো তিনি সব সময় বলেন। আমরা তো নির্বাচনের ফলাফলই প্রত্যাখান করেছি। সেখানে নতুন করে শপথ নেয়া বা সংসদে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।

বিএনপি ভেঙে যাবে নিজেদের কোন্দলে: কাদের শকুনির দোয়ায় গরু মরে না: রিজভী

বিএনপি ভেঙে যাবে নিজেদের কোন্দলে: কাদের
শকুনির দোয়ায় গরু মরে না: রিজভী

আল-ইনসাফ িনউজ

২৬ জানুয়ারি ২০১৯

01.jpg
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বিএনপি ভেঙে যাবে নিজেদের কোন্দলে-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।’ রিজভী একথাও বলেন, আওয়ামী লীগ ভেঙে চুপসে গেছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য ভাঙবে। এই অবস্থায় বিএনপি যদি ভাঙনের মুখে যায়, তাহলে বিএনপির ঘরোয়া কলহ-কোন্দলের জন্যই বিএনপি ভাঙবে। আওয়ামী লীগের প্রয়োজন নেই বিএনপি ভাঙার।

আজ কাদেরের সেই মন্তব্যের জবাবেই পাল্টা মন্তব্য কেরেছেন রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভেতর থেকে ভেঙে চুপসে গেছে। সেখানে নানা পন্থী এবং সিনিয়র-জুনিয়র নানা ধারা। যে কারণে তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেনি, পুলিশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে রাতের অন্ধকারে জাল ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করতে হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘পুলিশি ক্ষমতা যখন থাকবে না, তখন তো আওয়ামী লীগের বাতি জ্বালানোর লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিএনপির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।’ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ বলে ঘোষণা দেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এই ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারেনি বলেই ওবায়দুল সাহেবের বুকে বড় জ্বালা। এ জন্য তিনি বিএনপির ছিদ্র খুঁজতে আর্তচিৎকার করছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবকে মনে রাখার জন্য বলব, শকুনির দোয়ায় গরু মরে না।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেখানে রাখা হয়েছে, সেই জায়গাটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেঁতে ও ধুলাবালিতে আকীর্ণ কক্ষটিতে তাঁকে বাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বারবার এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তারা ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছে।

রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, সেটি অমানবিক ও দুঃখজনক।

তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি: কাদের

তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি: কাদের

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন
২৬ জানুয়ারি ২০১৯

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পেোরেশন (ডিএনসিসি) সহ সব নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেয়ার অনুরোধ করেছেন আওয়মী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, ঢাকা উত্তর সিটি ও উপনির্বাচন আছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর কারণে যে আসনটি শূন্য রয়েছে সেটি এবং অন্য উপ-নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক নিবন্ধিত দলকে আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কাদের বলেছেন, বিএনপি আজকে দিশেহারা পথিকের মতো পথ হারিয়ে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। পথিক যেমন পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায়, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপির অবস্থা সে রকম। তারা কি করবে, কি করবে না কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। জাতীয় নির্বাচনে মহাপরাজয়ের পর বিএনপি’র অবস্থা এখন মহাবিপর্যয়ে পড়ার মতো। তারা রাজনীতির মহাদুর্যোগে পতিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে একটা দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যে পরিণতি, সেটা তাদের অচিরেই ভোগ করতে হবে। কারণ, এতে তারা আরো নতুন সংকটে পতিত হবে। এ দেশে মুসলীমলীগও একটা বড় দল ছিল। বিএনপিও মুসলিমলীগের পরিণতির দিকে যাচ্ছে কি না। মনে হয় বিএনপি নির্বাচন বয়কটের মধ্যে দিয়ে নিজেদের আরো সংকুচিত করার পথ, সর্বনাশা পথ ও আত্মঘাতি পথ বেছে নিয়েছে। তাদের অনুরোধ করবো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।

মন্ত্রী বলেন, চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি ফ্লাইভারের কাজ আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে ইনশায়াল্লাহ। এর মধ্যে কালিয়াকৈরের লতিফপুর ও টাঙ্গাইলের ধেরুয়া রেলওভার ব্রীজের কাজ শেষ হয়েছে। আমি আশা করছি কোনাবাড়ি, চন্দ্রা ফ্লাইওভারব্রীজ এবং লতিফপুর ও ধেরুয়া রেলওভার ব্রীজগুলো আগামি রোজার আগে আমরা যানচলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দিত পারব। এতে আগামি রমজানের ঈদে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়কে আর কোন সমস্যা থাকবে না, যানচলাচল স্বাভাবিক হবে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ফোরলেনের রাস্তার কাজের আমরা চুক্তি করেছি। এরজন্য ১২হাজার কোটির টাকার মত বরাদ্দ হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সাসেক-২ প্রজেক্টের একটা চুক্তি করেছি। এরপর আমাদের সাসেক-৩ তে আসবে পঞ্চগড় থেকে বর্ডারের বুড়িমারী পর্যন্ত ফোরলেনের কাজ। এতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে গোটা উত্তরাঞ্চল ফোর লেনের আওতায় চলে আসবে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিনার আজাদ মিয়া, ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, সাসেক প্রকল্পের পরিচালক ইছহাক এবং স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পরিদর্শনে যান।

এই মুহূর্তে সংসদে যাওয়ার বা শপথ নেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না: মির্জা ফখরুল

এই মুহূর্তে সংসদে যাওয়ার বা শপথ নেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না: মির্জা ফখরুল

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন

২৬ জানুয়ারি ২০১৯

গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।

উল্যেখ্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শেখ হাসিনা বলেছেন, সংখ্যা দিয়ে বিরোধী দলকে মূল্যায়ন করা হবেনা। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যেকোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধীদলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে ‘প্রতারণামূলক’ বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদে আসতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই মুহূর্তে সংসদে যাওয়ার বা শপথ নেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তাঁর এই ভাষণের পর তাৎক্ষণিক ভাবে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কারণ ও বিএনপির পরাজয়ের কারণ উল্লেখ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। ক্ষমতাসীনরা নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি করেছে যা ইতিপূর্বে বাংলাদেশে কখনো হয়নি। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা আবার দখল করে নিয়েছেন। এরা আবার বলছেন দেশ পরিচালনা করবেন এবং এরা বিরোধী দলকে সংসদে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই বক্তব্যের মধ্যে আরও একটা প্রতারণা জনগণের সাথে করা হচ্ছে, বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে মানুষকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, একাদশ সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার। এটা কী সংসদ ধরা যায়? তিনি বলেন, বিএনপি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মুহূর্তে সংসদ যাওয়ার বা শপথ নেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না। ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি বলছে নির্বাচন বাতিল করেন, আবার নতুন নির্বাচন দেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেন। সবাই অংশগ্রহণ করবে। তারপরে যে ফলাফল আসবে সেই ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদ এবং, সরকার গঠন হবে। আমরা তো আগেই বলে দিয়েছি। নতুন করে বলার কিছু নেই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তার বক্তব্যের মধ্যে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তার বিজয় হলো? সেই ব্যাখ্যাই প্রমাণ করে যে তারা আসলে কোনো বিজয় অর্জন করেননি, জনগণের ভোটকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যাটা সেটাই প্রমাণ করে। তিনি বলেন, এর আগে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। সঠিক ভোটে জিতলে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া এবং বিভিন্ন দেশগুলো বক্তব্যের মধ্যে এসেছে যে, এই নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি এবং এখানে মানুষের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। ভয়াবহ রকমের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি হয়েছে।