Category Archives: রাজনীতি

বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে -প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি : প্রধানমন্ত্রী

০৭ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় সরকার টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টিকা পেলেই সর্বপ্রথম এই সঙ্কটে সম্মুখসারিতে থাকা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের দুই বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ‘এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এবং বৈশ্বিক মহামারির অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে’ জাতির সামনে তিনি হাজির হয়েছেন।

“করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং উপর্যুপরি বন্যা আমাদের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

“আমরা সেসব ধকল দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু করোনাভাইরাস-জনিত সঙ্কট থেকে বিশ্ব এখনও মুক্ত হয়নি।”

সরকার ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখার ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করে যাচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ এবং মৃত্যু হার অনেক কম।”

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ এর টিকাদান শুরু হওয়ায় যে আশার সঞ্চার হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। টিকা আসার পর পরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য-সহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।”

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ওই টিকা আমদানি ও ব্যবহারের অনুমোদনও দিয়েছে।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স এর আওতায় আরও আড়াই কোটি ডোজ টিকা আগামী জুনের মধ্যে বাংলাদেশ পাবে বলে সরকার আশা করছে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের সদস্যসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সঙ্কটে দরিদ্র-অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসায় তাদেরও ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাদের মৃত্যু হয়েছে, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি।”

ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু আমাদের দেশেই নয়, গোটা বিশ্বেই একই পরিস্থিতি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। অন-লাইনে এবং স্কুল পর্যায়ের জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়া হবে।”

মহামারীর অভিঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিও যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে কথা প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তুলে ধরেন।

তবে সরকার বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে যে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সে কথাও তিনি বলেন ।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা মোট জিডিপির ৪.৩ শতাংশ।

“পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সে প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় আড়াই কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আমরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তার আওতায় এনেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৫.২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের প্রাক্কলন অনুয়ায়ী এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.৪ শতাংশে।

“বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান হবে এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ২০২০-এ মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম যে দেশবাসীর সহায়তায় আমরা এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে দেশবাসী এ দুঃসময়ে আমার এবং আমার সরকারের পাশে ছিলেন।

“আপনারা আমাদের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাব- এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি

বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে -প্রধানমন্ত্রী

পাবনা-৪ উপনির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামানের জয়

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস – ছবি : সংগৃহীত


স্টাফ রিপোর্টার: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দুই লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল লতিফ শেখ ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া দুই উপজেলার মোট ১২৯টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৭৬ ভোট এবং জাতীয় পার্টি’র প্রার্থী রেজাউল করিম পেয়েছেন তিন হাজার ৭৪ ভোট।

পাবনা-৪ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল তিন লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন।

বিজয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটার এবং সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতায় আমি একটি সুন্দর ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া গড়ে তোলা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মসূচি সফল করার জন্য কাজ করব।

এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব নির্বাচনে অংশ নিলেও নানা অনিয়মের কারণ দেখিয়ে দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

গত ২ এপ্রিল সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে পাবনা-৪ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার কথা থাকলেও মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

বিএনপি’র কমিটি গঠন-পুনর্গঠন ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিৎ

বিএনপি’র কমিটি গঠন-পুনর্গঠন ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিৎ
২০ এপ্রিল ২০২০ সোমবার


স্টাফ রিপোর্টার: করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিএনপি।

রোববার রাতে বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দেশব্যাপী সকল পর্যায়ে চলমান কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত ছিল। করোনা মহামারির ব্যাপক বিস্তারের কারণে এই স্থগিতাদেশ চলতি বছরের আগামী ২৫ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্স; সামাজিক দুরত্ব মানলেননা গাজিপুরের কর্মকর্তারা

সামাজিক দুরত্ব কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের জন্য?
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কনফারেন্স, ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানলেন না গাজীপুরের কর্মকর্তারা

২০ এপ্রিল ২০২০ সোমবার


স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিদের ভিডিও কনফারেন্স। ছবি : টিভি থেকে নেওয়া
দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আট জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সে ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানলেন না গাজীপুরের কর্মকর্তারা। তারা স্বল্প পরিসরে গাদাগাদি করে বসায় কয়েকবার তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়।

শুরুতেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বহু আগেই এটা আমি সতর্ক করেছি যে এপ্রিল মাসে সবাইকে আরেকটু সাবধানে থাকা দরকার। সেটাই দেখা গেল এপ্রিল মাসে করোনার প্রাদুর্ভাব একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এ সময় চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জাম অন্যদের ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর আট জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রথমেই গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম তিনি উপস্থাপনা শুরু করলে মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সামাজিক দূরত্ব’ না মেনে সবাই একসঙ্গে বসায় তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জেলা প্রশাসক থেমে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাকে আবার শুরু করতে বলেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার প্রতিনিধি হিসেবে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা উঠে ডিসির পাশে যান কথা বলতে। তাকে সেখানে বসার ব্যবস্থা করে দিলে প্রধানমন্ত্রী আবার বলেন, ‘আপনার কি রকম ঠাসাঠাসি করে বসছেন তাতে তো আরও …।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ভিডিও কনফারেন্সে গাজীপুরের প্রতিনিধি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, কমান্ডিং অফিসার ১৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পরিচালক শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি এবং একজন নার্স।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্স এ সামাজিক দুরত্বহীন গাজিপুরের কর্মকর্তাবৃন্দ

রাত পোহালেই গাইবানাধা-৩ সাদুল্লাপুর -পলাশবাড়ী আসনের উপ নির্বাচন

বিশেষ সংবাদদাতা : গাইবান্ধা-৩ সাদুল্লাপুর -পলাশবাড়ী আসনের উপ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্য হয়েছে।

উপ নির্বাচনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করবেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সারে ৩ হাজার সদস্য। ইতি মধ্যেই বিভিন্ন ভোট সেন্টারে পৌঁছে গেছে নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

ভোট সেন্টারে অরাজকতা ঠেকাতে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে আইন শৃঙখলা বাহিনী। ভোট সুস্ঠু করতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা।

জেলা পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইনলাম জানান উপ নির্বাচনে কোনো প্রকার অরাজকাতা হতে দেয়া হবেনা। ভোট সুস্ঠু করতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কঠোর হস্তে মোকাবেলা করা হবে বলে জানান তিনি।

টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক

টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক

টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক
টিআইবির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক – সংগৃহীত

        দু্নীতি নিয়ে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তারা যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে রিপোর্টে ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার থাকতে হবে।  এই হয়েছে, সেই হয়েছে, এমনটা বললে আমরা কী করতে পারব? বরং দুর্নীতি কে করেছে, তা উল্লেখ করলে ব্যবস্থা নিতে পারব।’ মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের নিজ কার্যালয়ে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিআইবিকে অনেক আগে থেকে বলে আসছি, আপনারা কোন পদ্ধতিতে দুর্নীতির সুচক তৈরি করেন। কোনোবারই তারা উত্তর দিতে পারেননি। এবার তারা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেখানে আগের চেয়ে দুর্নীতি বেড়েছে বলা হয়েছে।  দেশের মানুষ দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের রিপোর্টে দুর্নীতি বাড়ার কারণ কী আর কী ব্যবস্থা নিলে দুর্নীতি কমবে, এগুলো উল্লেখ না থাকলে সে রিপোর্ট আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করব না। টিআইবি বলছে দুর্নীতি বেড়েছে, এটা ভালো। কারণগুলো, কোন প্রেক্ষাপটে বেড়েছে সেগুলো থাকতে হবে।’

টিআইবির সাথে দুদকের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাইব, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, জনসচেতনতা বেড়েছে। সেই অনুযায়ী টিআইবি রিপোর্ট তুলে ধরুক।’

টিআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক রাঘব বোয়ালকে আমরা ধরতে পারিনি ঠিকই, তবে চেষ্টা করছি বিকল্প ব্যবস্থা নিতে। কেউ বিদেশে বসে থাকলে তাকে ধরা যায় না।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৮’ প্রকাশ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম স্থানে। ২০১৭ সালে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭ তম। ২০১৮ সালে দুর্নীতি বেশি হওয়ায় ৪ ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দুর্নীতির ধারণা সূচকে ১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর হিসাবে বিবেচনা করলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমে হয়েছে মাত্র ২৬। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই স্কোর দুর্নীতির ব্যাপকতায় উদ্বেগজনক।
   অর্থপাচার সম্পর্কে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এক বছরে দেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে পত্রিকায় একটি নিউজ হয়েছে, সেটি আমলে নিতে গিয়ে দেখতে পাই কে কীভাবে কোথায় টাকা পাচার করেছে, তার কোনো হদিস নেই। মহাসমুদ্রে কাকে খুঁজব? এ রকম রিপোর্টের কোনো আগামাথা নেই। মনগড়া বক্তব্য লিখলেই হবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেউ কেউ বায়াস্ট হয়েও লেখে। কাউকে ধরতে গেলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুদক আইন অনুযায়ী আমরা সব জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গত কিছু দিন আগে বিদেশে পলাতক লুৎফর রহমান বাদলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছি। লন্ডনে বা বিদেশে বসে থাকলে তো কাউকে ধরতে পারব না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সব জায়গায় বিরাজ করছি। অনুসন্ধান করছি। এতে আমাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল পরিদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইন আছে, দণ্ডবিধি আছে, কোথায় কী করতে হবে, তা জানি। না জেনে স্কুলে অভিযানে যাইনি। তফসিলভুক্ত কাজের মধ্যেই পড়ে এটি। অনেকে টকশোতে বলেন, এটা দুদকের কাজ নাকি? যারা বলেন, তারা দুদকের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে মামলা করুক। সেখানে আইন দেখানো হবে। আদালত ব্যবস্থা নেবে।’
দুদকের মামলায় টাঙ্গাইলের জাহালম নামে এক যুবক অন্যের হয়ে জেল খাটছেন, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। যখনই আমরা জানতে পেরেছি, তখনই বিষয়টি চিহ্নিত করেছি। আমরা আদালতকেও বিষয়টি বলেছি। কোনো আসামিকে তো আমরা শনাক্ত করি না। মামলার বাদী জাহালমকে ছালেক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ জাহালমকে ছালেক হিসেবে ধরেছে।’
এ জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় ত্রুটিকে দায়ী করে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করা হয়েছে, পুলিশ ভূল করেছে, বাদি ভূল করেছে, দুদকের দায় থাকতে পারে। উচ্চ আদালত আমাদের ডেকেছেন। আমরা নিশ্চয়ই যাবো।  জাহালমের মুক্তির পর আমরা এটি তদন্ত করব।’ কারা এর সাথে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে: জিএফআই

৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে: জিএফআই

বিবিসি বাংলা
২৯ জানুয়ারি ২০১৯

taka৫০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে – ছবি : সংগ্রহ

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বলছে, ২০১৫ সালে বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এটি প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার সমপরিমান।

বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সময় এ কারসাজি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য-আমদানি রপ্তানিতে কারসাজির মাধ্যমে কিভাবে অর্থ পাচার হয়ে গেছে, তার একটি চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ থেকে টাকা বেরিয়ে গেছে দুইভাবে – একটি উপায় হচ্ছে, পণ্য আমদানির সময় কাগজপত্রে বেশি দাম উল্লেখ করে টাকা পাচার, আরেকটি হচ্ছে, পণ্য রপ্তানি করার সময় কাগজপত্রে দাম কম দেখানো।

রপ্তানির সময় কম দাম দেখানোর ফলে বিদেশী ক্রেতারা যে অর্থ পরিশোধ করছে, তার একটি অংশ বিদেশেই থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আসছে শুধুমাত্র সেই পরিমান অর্থ, যে পরিমান অর্থের কথা দেখানো হচ্ছে অর্থাৎ কাগজপত্রে যে দাম উল্লেখ করা হয়েছে সেটা।

জিএফআই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পায় সেটির প্রায় তিনগুণ টাকা পাচার হয়েছে ২০১৫। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ড. ভট্টাচার্য বলেন, শুধু উন্নত দেশের সাথে বাণিজ্যের ভিত্তিতে এ পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে থেকে বেরিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘বেশি দামের জিনিসকে কম দাম দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটার ভিত্তিতে কম টাকা দেশের ভেতরে আসছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দাম দেখিয়ে রপ্তানি করা হলেও টাকা আদৌ দেশের ভেতরে আসেনি।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এভাবেই অর্থ বেরিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দাম কম-বেশি যেমন দেখানো হয়, আবার পণ্যের মান এবং পরিমাণের ক্ষেত্রেও কারসাজি করা হয় – এমন কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বাণিজ্যের মাধ্যমে কারসাজি করে অর্থ পাচারের তালিকায় বিশ্বের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। অনেক সময় পণ্য আমদানি-রপ্তানির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে খালি কন্টেইনার আসা-যাওয়া করেছে, এমন উদাহরণও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা বিদেশে প্রয়োজনের জন্য যতখানি না নিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি হলো ওনারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, ওনারা শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছেন।’

দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে অনেকে দীর্ঘমেয়াদী কিংবা মধ্যমেয়াদী অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজির সুরক্ষার জন্য অন্যত্র টাকা রাখছেন বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

তবে এই তালিকায় অর্থ পাচারের যে চিত্র দেখানো হচ্ছে বাস্তবে অর্থ পাচার তার চেয়ে অনেক বেশি বলেই আশঙ্কা করা হয়।
জিএফআই বলছে তারা যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে সেটি খুবই কম হিসেব, কারণ তারা যতটুকু আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পেয়েছে সেটির ভিত্তিতে অর্থ পাচারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক কারসাজি হয় যেগুলোর প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। একই কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুর। তিনি বলেন, শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যান দিয়ে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ জানা সম্ভব নয়। বাণিজ্য কারসাজির বাইরে একটি বড় অংকের টাকা দেশ থেকে পাচার হয় হুন্ডির মাধ্যমে এবং এর কোন পরিসংখ্যান নেই বলে ড. মনসুর উল্লেখ করেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে টাকা নিতে চায়, তাহলে বাড়ি বিক্রেতা তার টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীকে দিয়ে দেবে। একই পরিমাণ বিদেশী মুদ্রা বিদেশে অবস্থানরত আরেকজন হুন্ডি ব্যবসায়ী বাড়ি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে।

তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে টাকা পাচার করে কারণ তারা সেটি দেশে ভোগ করতে পারছেন না। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেও অনেকে টাকা পাচার করে বলে উল্লেখ করেন ড. মনসুর।

জামিনে মুক্তি পেলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল

জামিনে মুক্তি পেলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

ব্যারিস্টার মইনুল

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন

২৮ জানুয়ারি ২০১৯

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মানহানির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পর জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি।
গত রাত ৯টায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

ঢাকার জেলার মাহবুবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মইনুল হোসেন। সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার মধ্যে এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ২০টির মতো মামলা হয়।
এরপর ২২ অক্টোবর রংপুরের এক মানহানির মামলায় মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। মানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোববার জামিন পেয়েছেন।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোমানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রোববার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুদ রানা।

খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায় এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তরে’ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

এরপর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। তবে রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।| রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রোববার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সাথে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা।

খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায় এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘একাত্তরে’ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

এরপর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। তবে রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

চলছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের ভোটগ্রহণ

চলছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের ভোটগ্রহণ

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন
২৭ জানুয়ারি ২০১৯


স্থগিতকৃত গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঐক্যফন্ট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী জাপার (জাফর)

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী গত ২০ ডিসেম্বর মারা গেলে এ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সাদুল্যাপুরের ১১টি ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। এ জন্য ১৩২ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৭৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও এক হাজার ৫৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মোট ভোটার চার লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৭৪৬ জন এবং মহিলা দুই লাখ ১১ হাজার ১০৮ জন।

এ উপলক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার সব ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এই দুই উপজেলার সব সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাও বন্ধ থাকবে।

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, নির্বাচনের দিন দুই উপজেলায় দুই হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, বিজিপি ২০ প্লাটুন, র্যাব ২০ প্লাটুন ও এক হাজার ৫৮৪ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মইনুল হাসান সাদিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন; কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন গত ১০ জানুয়ারি ভোট কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কায় সাদিকসহ বাসদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এখন ভোটের লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন মহাজোটভুক্ত আ’লীগ প্রার্থী ডা: ইউনুস আলী সরকার (নৌকা), জাপা (এ) প্রার্থী দিলারা খন্দকার (লাঙ্গল), জাসদ প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (মশাল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিজানুর রহমান তিতু (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো: জাহিদ (সিংহ)।

মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার লাশের গলায় ঝোলানো, ‘ধর্ষণের কারণে আমার এই পরিণতি

আল-ইনসাফ নিউজ অনলাইন

২৭ জানুয়ারি ২০১৯

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ধর্ষণ মামলার এক আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘ধর্ষণের কারণে আমার এই পরিণতি।’

কাঁঠালিয়া থানার ওসি এনামুল হক জানান, শনিবার বেলা ২টার দিকে বলতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সজলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় সুতা দিয়ে ঝুলানো একটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার নাম সজল মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কারণে আমার এই পরিণতি’।

নিহত সজল জোমাদ্দার (২৮) পাশের জেলা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি পিরোজপুরের ভন্ডারিয়া উপজেলায় গ্রামের বাড়ি থেকে পাশের হেতালিয়া গ্রামে নানাবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পথে এক মাদরাসা ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে পানের বরজে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সজলের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ভান্ডারিয়া থানায় সজলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকে উভয় আসামি পালাতক ছিলেন বলে জানান ভন্ডারিয়া থানার এসআই তারিকুল। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এধরণের ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তোলে ধরছেন সাধারণ মানুষ।