Category Archives: জাতীয়

বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে -প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি : প্রধানমন্ত্রী

০৭ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় সরকার টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টিকা পেলেই সর্বপ্রথম এই সঙ্কটে সম্মুখসারিতে থাকা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের দুই বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ‘এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এবং বৈশ্বিক মহামারির অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে’ জাতির সামনে তিনি হাজির হয়েছেন।

“করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং উপর্যুপরি বন্যা আমাদের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

“আমরা সেসব ধকল দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু করোনাভাইরাস-জনিত সঙ্কট থেকে বিশ্ব এখনও মুক্ত হয়নি।”

সরকার ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখার ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করে যাচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ এবং মৃত্যু হার অনেক কম।”

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ এর টিকাদান শুরু হওয়ায় যে আশার সঞ্চার হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। টিকা আসার পর পরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য-সহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।”

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ওই টিকা আমদানি ও ব্যবহারের অনুমোদনও দিয়েছে।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স এর আওতায় আরও আড়াই কোটি ডোজ টিকা আগামী জুনের মধ্যে বাংলাদেশ পাবে বলে সরকার আশা করছে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের সদস্যসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সঙ্কটে দরিদ্র-অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসায় তাদেরও ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাদের মৃত্যু হয়েছে, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি।”

ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু আমাদের দেশেই নয়, গোটা বিশ্বেই একই পরিস্থিতি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। অন-লাইনে এবং স্কুল পর্যায়ের জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়া হবে।”

মহামারীর অভিঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিও যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে কথা প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তুলে ধরেন।

তবে সরকার বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে যে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সে কথাও তিনি বলেন ।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা মোট জিডিপির ৪.৩ শতাংশ।

“পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সে প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় আড়াই কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আমরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তার আওতায় এনেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৫.২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের প্রাক্কলন অনুয়ায়ী এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.৪ শতাংশে।

“বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান হবে এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ২০২০-এ মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম যে দেশবাসীর সহায়তায় আমরা এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে দেশবাসী এ দুঃসময়ে আমার এবং আমার সরকারের পাশে ছিলেন।

“আপনারা আমাদের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাব- এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি

বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে -প্রধানমন্ত্রী

প্রার্থিতা বহালে আপীলের সুযোগ ৩ দিন

প্রার্থিতা বহালে আপীলের সুযোগ ৩ দিন

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রতি আসনে দাখিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করবেন। এতে নির্বাচনে আগ্রহী কারো মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষিত হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার চাইতে পারবেন আগামী ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর।

ইসি জানায়, রিটার্নিং বা সহকারি রিটার্নিং অফিসার কারো মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে এ আপিল করতে হবে ইসির কাছে।

জানা গেছে, প্রার্থিতা নিয়ে সংক্ষুব্ধরা আগামীকাল সোমবার থেকে বুধবারের (৩-৫ ডিসেম্বর) মধ্যে ইসিতে অভিযোগ করতে পারবেন। ইসি ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিলগুলোর শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে।

সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইেয়র সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণা করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মনোঃপুত না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অর্থাৎ বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আপিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে সাদা কাগজে আবেদনের করে তথ্য-প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এটা করতে হবে আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। আর কমিশন প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনই আপিল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পালন করবেন।

এর আগে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোঃপুত না হলে সংক্ষুব্ধরা আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। সেখানেও যদি তিনি সন্তুষ্ট না হন তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতেও যেতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সারা দেশের ৩০০ আসনে মোট ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তফিসল অনুযায়ী, একাদশ সংসদে ভোটগ্রহণ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর। প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

হবিগঞ্জে রেজা কিবরিয়া ও আ’লীগের বর্তমান এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল

হবিগঞ্জে রেজা কিবরিয়া ও আ’লীগের বর্তমান এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল

ড. কামাল হোসেনের কাছে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন ড. রেজা কিবরিয়া – ফাইল ছবি

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালে গণফোরামের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ঋণখেলাপীর কারণে ড. রেজা কিবরিয়ার এবং মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর না থাকায় আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসার এ ঘোষণা দেন।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহএএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে গণফোরাম থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার মনোনায়নপত্র বাতিলের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের কালো পতাকা মিছিল

খালেদা জিয়ার মনোনায়নপত্র বাতিলের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের কালো পতাকা মিছিল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তার মনোনায়নপত্র বাতিলের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবি, বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এবং ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনসহ বিরোধী দলের সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে কলো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা।

আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে জাতীয় যুব আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে শতাধিক আইনজীবী কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেন। যুব আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আইনজীবী আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী আবেদ রাজা, মনির হোসেন, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, ওয়াসিলুর রহমান বাবু, আরিফা জেসমিন নাহিন, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনিছুর রহমান খান, আল মাহমুদ, কামাল হোসেন প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে বিএনপির প্রতিক্রিয়া

খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে বিএনপির প্রতিক্রিয়া

খালেদা জিয়া – ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বতিলের ঘটনা ‘সরকারের নীলনকশা’ বলেছে বিএনপি। সকালে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র বাতিলের পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে বিপুল জনপ্রিয়তা, সেই জনপ্রিয়তা থেকে তাকে দূরে সরানোর যে মাস্টার প্ল্যান সরকার করেছেন, যে নীলনকশার অংশ বলে আমরা মনে করি। খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসনে বিকল্প হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শুধু দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলই নয়, ঢাকা-৬ আসনে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও ঢাকা-২ আসনে নবাবগঞ্জের উপজেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান আবু আশফাক খন্দকার ও দিনাজপুর-৩ আসনে সদ্য পদত্যাগকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এভাবে বেছে বেছে জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ধারাবাহিক ঘটনা। সরকার পরিকল্পনা করেছে যে, একতরফা নির্বাচন করবে, গায়ের জোরে নির্বাচন করবে এবং জোর করে ক্ষমতায় থাকবে। আবু আশফাক খন্দকার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্র গ্রহণের দাবি জানান রিজভী।

তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতার মায়ায় যেভাবে বুঁদ হয়ে আছে, ক্ষমতার নেশায় যেভাবে বুঁদ হয়ে আছে সেখানে শেখ হাসিনা কখনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইবে না। তারপরও আমি বলব, সকল বাঁধ ভেঙে জনগণ এগিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এখনো সরকারকে হুঁশিয়ার করছি যে, স্থানীয় সরকারের যে প্রধান তিনি যখনই পদত্যাগ করবেন তখন তা গৃহীত হবে- এটা আইন। এই আইন ভঙ্গ করে আপনারা যে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন তার পরিণতি ভালো হবে না।

এক আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

এক আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

ফেনীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বিবিসিকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন!

মি. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়া দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ক প্রতিবেদন এসেছে আমাদের হাতে। তার ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’

‘পুলিশ আমাদের কাছে যে তথ্য দিয়েছে তা অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া দশ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত এবং জিয়া চ্যারিটেবল মামলা হিসেবে পরিচিত মামলায় তিনি ৭ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত।’

‘সে কারণে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ১৪-এর বিধান মোতাবেক খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে’, নিশ্চিত করেন মি. ওয়াহিদুজ্জামান।

খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপির নেতারা আশা করছিলেন যে, তাদের নেত্রী ‘নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’ এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ দুটি দুর্নীতির মামলায় সাবিরা সুলতানা নামে একজন বিএনপি নেত্রীকে নিম্ন আদালতের দেয়া মোট ছ’বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের রায়ে সাজা স্থগিত হবার পর দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন – এমন দৃষ্টান্ত আছে। তাই বৃহস্পতিবারের রায়ের ফলে ‘খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিকরা হয়তো নির্বাচন করতে পারবেন’ এমন সম্ভাবনা তৈরি হয় ।

কিন্তু শনিবারই সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দু’বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’

যে কারণে পর্যবেক্ষক হিসেবে জানিপপ ও ড. কলিমুল্লাহর বিষয়ে বিএনপির আপত্তি

যে কারণে পর্যবেক্ষক হিসেবে জানিপপ ও ড. কলিমুল্লাহর বিষয়ে বিএনপির আপত্তি

ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও জানিপপ। – ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপ ও তার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। বিএনপির প্রতিনিধিদল গতকাল এ চিঠি সিইসিকে দেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সিইসির সাথে দেখা ও বৈঠক করে এ সংক্রান্ত চিঠি দেন। তারা এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সিইসিকে অনুরোধ করেন।

সিইসিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, জানিপপের চেয়ারম্যান বর্তমানে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। তিনি গত রংপুর সিটি নির্বাচনের সময় এক আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে প্রচারণা চালান। এ ছাড়া, বিভিন্ন টকশোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ভাগনে।

চিঠিতে বলা হয়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে তিনি তার নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন। ফলে তাকে ও তার সংস্থা জানিপপকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব না দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন অন্ধ না হয় কানা : রিজভী

নির্বাচন কমিশন অন্ধ না হয় কানা : রিজভী

বিএনপি অভিযোগ করে বলেছে, নির্বাচন বানচালের জন্য সরকার দেশব্যাপী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকার জন্যই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে ব্যস্ত আছে। আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) হয় অন্ধ না হয় কানা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার সরকারের পক্ষে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন, আইন-আদালত, বিচারিক প্রক্রিয়া সবকিছুর উপরই সরকার যেন সিন্দাবাদের জ¦ীনের মতো সওয়ার হয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মনোনয়ন পত্রের দু’পাশ থেকে ধরে আছেন পুলিশের দুজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অর্থাৎ পুলিশ কর্মকর্তারা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে। অথচ এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন উদাস কবির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিলো না।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার শুরু থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ যেন আরো অবনতিশীল হয়েছে। নৌকার পক্ষে হালে পানি না পাওয়ায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের শুধু মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করেই সরকারের সাধ মিটছে না এখন তাদের ভিটে-মাটিতে ঘু ঘু চরিয়ে দিতে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সারাদেশে প্রার্থীসহ বেছে বেছে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। প্রার্থীসহ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আর এসব কিছু নেপথ্য থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে দুটি শক্তিশালী কেন্দ্র- একটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যটি গণভবন, নির্বাচন কমিশন হুকুম-বরদার মাত্র। কমিশন শুধু ওই দুই কেন্দ্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশে বিরোধী দলশূন্য নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতেই এসব ঘৃণ্য অপকর্ম সাধন করা হচ্ছে। যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ছোঁ মেরে তুলে নিচ্ছে, গুম করছে, গ্রেফতারের পর অস্বীকার করছে, রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে এবং জামিনে মুক্তিলাভের পরও জেলগেট থেকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা হচ্ছে তাতে সারাদেশে এক রক্ত-শীতল করা আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজমান হয়েছে। জনগণকে ভোট থেকে দূরে রাখার জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সরকারী দলের অনাচারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ঘটনা থেকেই মনে হয়-তারা ভোটারদের ভীতিগ্রস্ত করতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের সময় এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে নৌকাকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী করার জন্য।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর গাজীপুরের ওসি আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পোশাক পরে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তিনি সেখানে বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে কারো জানা নেই। অথচ সময়ের অজুহাত তুলে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়নি। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর পক্ষে রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তাকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অথচ কিছু রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের পক্ষপাতযুক্ত বেআইনী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এই পক্ষপাতের ধারা ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সুতরাং কমিশন নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

রিজভী বলেন, ওসি ও এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখনই যেভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে তাতে নির্বাচনের দিনে কি পরিস্থিতি হবে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। এতো নিয়মভঙ্গের পরও নির্বাচন কমিশনের চোখ বন্ধ রাখাটা আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে কমিশনের ভূমিকা সারাবিশ্বে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লিখিত হবে। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গত দুইদিন আগে সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন- সারাদেশে কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে না। তবে সিইসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের এধরনের তথ্য মানুষ খুব একটা গ্রাহ্য করছে না এজন্য যে, তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে আওয়ামী লীগ রাস্তাঘাট দখল করে রাস্তার ওপর গেট বানিয়ে, বড় বড় নৌকা টাঙ্গিয়ে রেখেছে। আওয়ামী হার্মাদরা মহাসড়ক দখল করে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড টাঙ্গিয়েছে। কমিশনের নির্দেশে নির্বাচনী কিছু ব্যানার-পোস্টার তুলে ফেলা হলেও নৌকায় হাত দিতে কেউ সাহস পায়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-গোটা নির্বাচন কমিশনই নৌকায় চেপে বসে মাঝ নদীতে ভাসছে কিন্তু কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মীর মো: নাসির উদ্দিন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিছেন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী। মীর নাসির বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর এধরনের বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ বিএনপি নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। ২০০৭ সালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত তার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন, আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জজ আদালতের দন্ডাদেশ স্থগিত করেন, যা এখনো বলবৎ আছে। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মীর নাসিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর সরফত আলী সপু এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটুকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুবদল গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন বাটকে গত পরশু বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু তার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে তারা। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও তার এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল ইসলাম পটুকে গ্রেফতার করা উদ্দেশ্যমূলক ও দূরভিসন্ধিমূলক। আমি অবিলম্বে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া জসিম উদ্দিন বাট নিখোঁজ থাকার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই আটক করে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তার পরিবার এবং দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছে। আমি অবিলম্বে জসিম উদ্দিন বাটকে সুস্থাবস্থায় তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, শনিবার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাটোরের বাসভবনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা চলাকালে আওয়ামী সশস্ত্র সন্তাসীরা সভার ওপর হামলা ও ভাংচুর চালায়। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এছাড়া ফেনী সদর উপজেলায় বেলায়েত হোসেন বাচ্চুকে গ্রেফতার করেছে। ফেনী-২ নির্বাচনী আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের বাসায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করলেও প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর শ্যামপুরে আরিফ আহমেদ রাতুল, কদমতলী থানা বিএনপি নেতা হাফেজ সরকার, মোহাম্মদপুরে ছাত্রদলের মাজহারুল ইসলাম মারুফ, চট্টগ্রাম মহানগরে মোশারফ হোসেন জামাল, মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের শ্যামল, শেরপুরে রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে গ্রেফতার করে এবং গভীর রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে তল্লাশি চালায় ও পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাগেরহাটে যুবদলের এম এ ওয়াহিদকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করে গুরুতর জখম করে। পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না – ছবি : সংগৃহীত

ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান ও জাতীয় নির্বাচনে যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীতপ্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা কিংবা দণ্ডর মেয়াদী দুই বছরের অধিক হলে দণ্ডিত ব্যাক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। অন্যদিকে সাবিরা সুলতানার পক্ষে শুনারিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আখতারুজ্জামান, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রফী, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ।
প্রমূখ। এছাড়াও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজিদ ও মো. খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেন বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পরে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারিক আদালতের দেয়া সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে গত ২৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, সংবিধান অনুসারে ২ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন। তাই হাইকোর্টের এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাবো।

ইসিতে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলে

ইসিতে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে বৈঠক করতে আজ রোববার সকালে এসেছেন আওয়ামী লীগের ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে সদস্যদের একজন জানান।