আ.লীগ প্রার্থীর পেশা ব্যবসা হলেও বার্ষিক আয় শূন্য

হলফনামার তথ্য

আ.লীগ প্রার্থীর পেশা ব্যবসা হলেও বার্ষিক আয় শূন্য

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

371043_125মোজাফ্ফর হোসেন – ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত মো: মোজাফফর হোসেনের পেশা ব্যবসা (১০০% রফতানিকারী উৎপাদনশীল বস্ত্র প্রতিষ্ঠান)। কিন্তু ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় শূন্য। এছাড়াও কৃষিখাত, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া ও পেশা থেকে তার বার্ষিক কোনো আয় নেই। তবে চাকরি থেকে ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা (পরিচালক পারিতোষিক), সঞ্চয়ী হিসাবের ব্যাংক সুদ থেকে ১৭ হাজার ৬৩৭ টাকা এবং অন্যান্য থেকে ৪০ হাজার টাকা (বোর্ড মিটিংয়ে অংশগ্রহণ বাবদ) তার বার্ষিক আয় হয়।

তার নামে ও স্ত্রীর নামে কোনো কৃষিজমি নেই। এছাড়াও তার কোনো দায় নেই। তার নিজ নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তবে স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

এবারের মনোনয়নপত্রের সাথে দেয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি।

তার বার্ষিক আয় ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় ১২ লাখ টাকা। হলফনামার ৮(ক)-তে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার উপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করিনি।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো: মোজাফ্ফর হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (টেক্সটাইল)। তার হাতে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৬ টাকা এবং স্ত্রী হাতে নগদ টাকা ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৩৪ টাকা। তার নামে ও স্ত্রী নামে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। তার নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৬ টাকা। তার নিজ নামে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৮১২টি শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪০টি শেয়ার, যার মূল্য ২ কোটি ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫০ টাকা। তার নামে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারাদি ২৫ ভরি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ ভরি, যার মূল্য ২২ হাজার টাকা। ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের এসি ও টিভি রয়েছে তার নাম এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ল্যাপটপ, এলইডি টিভি ও ফ্রিজ রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। তার নামে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের খাট, ওয়ারড্রপ ইত্যাদি আসবাবপত্র রয়েছে তার নামে। কিন্তু তার স্ত্রীর নামে কোনো আসবাবপত্র নেই। তার নামে ২০ লাখ ২১ হাজার ৬৯৬ টাকার ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম রয়েছে। তবে স্ত্রী নামে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম নেই। তার নামে ঢাকা ও জামালপুরে ১৫৯৭.৭১১ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ৭১ লাখ ২৩ হাজার ৪৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৮৮.৩৭ শতাংশ, যার মূল্য ১০ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।

এদিকে মোজাফ্ফর হোসেনের কোম্পানির নাম সীম ফেব্রিক্স লিমিটেড। ওই কোম্পানির ব্যবসায়ীক মূলধন ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২০ টাকা। মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

এত কিছু করেও মির্জা আব্বাসকে ঠেকাতে পারলেন না মেনন

এত কিছু করেও মির্জা আব্বাসকে ঠেকাতে পারলেন না মেন

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

371039_135.jpgমির্জা আব্বাস ও রাশেদ খান মেনন। – ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন এই আসনের মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাশেদ খান মেননের করা আবেদন না মঞ্জুর করে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।

গতকাল শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে কমিশন এ আবেদন না মঞ্জুর করেন। ফলে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আাব্বাসের নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা রইলো না।

গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহাল রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। এরপর ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে রাশেদ খান মেননের পক্ষে আবেদনটি জমা দেন আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম।

আবেদনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করার জন্য আপিল করা হয়েছিল।

হলফনামায় তথ্য গোপন করার অভিযোগে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ওই আপিল করা হয়েছিল।

মেননের আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম বলেছিলেন, মির্জা আব্বাস হলফনামায় তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস যে ঋণখেলাপি সেটা গোপন করেছেন। এ ছাড়া মির্জা আব্বাস হলফনামায় লিখেছেন- তার স্ত্রী তার কাছে ৭৩ লাখ টাকার বেশি পাবেন। আবার স্ত্রী লিখেছেন, তিনি তার স্বামীর কাছে ১ কোটি টাকা পাবেন। এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য। কিন্তু ইসির আপিলে মেননের যুক্তি খারিজ হয়ে যায়। এরফলে মির্জা আব্বাসের প্রার্থী হতে আর কোন বাধা থাকল না।

গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা রাশেদ খান মেনন তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দী মিজা আব্বাসকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।

বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন আরো যারা

জাতীয় নির্বাচন

বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন আরো যার371035_199

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সমঝোতার পর বাকি আসনগুলোতে দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

গতকাল শনিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপি ঘোষিত ১০ জনের মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন নারায়নগঞ্জ-১ কাজী মনির, পটুয়াখালী-২ শহীদুল আলম তালুকদার, গাইবান্ধা-২ আব্দুর রশিদ সরকার (জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া),

ময়মনসিংহ-১ আলী আসগর, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, জামালপুর-১ রশিদুজ্জামান মিলাত, কুমিলা-৬ হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, সিলেট-১ (সদর আসন) খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, চাঁদপুর-৩ (সদর আসন) শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক) ও বরগুনা-২ খন্দকার মাহবুব হোসেন (সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান)

এ ছাড়া, নাদিম মোস্তফা আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় রাজশাহী-৫ এ মনোনয়ন পরিবর্তন হয়েছে। সেখানে নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তাকে বাদ দিয়ে নাদিম মোস্তফাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।