Category Archives: রাজনীতি

এক আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

এক আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

ফেনীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বিবিসিকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন!

মি. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়া দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ক প্রতিবেদন এসেছে আমাদের হাতে। তার ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’

‘পুলিশ আমাদের কাছে যে তথ্য দিয়েছে তা অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া দশ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত এবং জিয়া চ্যারিটেবল মামলা হিসেবে পরিচিত মামলায় তিনি ৭ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত।’

‘সে কারণে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ১৪-এর বিধান মোতাবেক খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে’, নিশ্চিত করেন মি. ওয়াহিদুজ্জামান।

খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপির নেতারা আশা করছিলেন যে, তাদের নেত্রী ‘নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’ এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ দুটি দুর্নীতির মামলায় সাবিরা সুলতানা নামে একজন বিএনপি নেত্রীকে নিম্ন আদালতের দেয়া মোট ছ’বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের রায়ে সাজা স্থগিত হবার পর দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন – এমন দৃষ্টান্ত আছে। তাই বৃহস্পতিবারের রায়ের ফলে ‘খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিকরা হয়তো নির্বাচন করতে পারবেন’ এমন সম্ভাবনা তৈরি হয় ।

কিন্তু শনিবারই সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দু’বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’

নির্বাচন কমিশন অন্ধ না হয় কানা : রিজভী

নির্বাচন কমিশন অন্ধ না হয় কানা : রিজভী

বিএনপি অভিযোগ করে বলেছে, নির্বাচন বানচালের জন্য সরকার দেশব্যাপী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকার জন্যই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে ব্যস্ত আছে। আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) হয় অন্ধ না হয় কানা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার সরকারের পক্ষে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন, আইন-আদালত, বিচারিক প্রক্রিয়া সবকিছুর উপরই সরকার যেন সিন্দাবাদের জ¦ীনের মতো সওয়ার হয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মনোনয়ন পত্রের দু’পাশ থেকে ধরে আছেন পুলিশের দুজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অর্থাৎ পুলিশ কর্মকর্তারা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে। অথচ এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন উদাস কবির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিলো না।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার শুরু থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ যেন আরো অবনতিশীল হয়েছে। নৌকার পক্ষে হালে পানি না পাওয়ায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের শুধু মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করেই সরকারের সাধ মিটছে না এখন তাদের ভিটে-মাটিতে ঘু ঘু চরিয়ে দিতে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সারাদেশে প্রার্থীসহ বেছে বেছে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। প্রার্থীসহ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আর এসব কিছু নেপথ্য থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে দুটি শক্তিশালী কেন্দ্র- একটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যটি গণভবন, নির্বাচন কমিশন হুকুম-বরদার মাত্র। কমিশন শুধু ওই দুই কেন্দ্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশে বিরোধী দলশূন্য নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতেই এসব ঘৃণ্য অপকর্ম সাধন করা হচ্ছে। যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ছোঁ মেরে তুলে নিচ্ছে, গুম করছে, গ্রেফতারের পর অস্বীকার করছে, রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে এবং জামিনে মুক্তিলাভের পরও জেলগেট থেকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা হচ্ছে তাতে সারাদেশে এক রক্ত-শীতল করা আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজমান হয়েছে। জনগণকে ভোট থেকে দূরে রাখার জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সরকারী দলের অনাচারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ঘটনা থেকেই মনে হয়-তারা ভোটারদের ভীতিগ্রস্ত করতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের সময় এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে নৌকাকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী করার জন্য।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর গাজীপুরের ওসি আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পোশাক পরে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তিনি সেখানে বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে কারো জানা নেই। অথচ সময়ের অজুহাত তুলে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়নি। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর পক্ষে রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তাকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অথচ কিছু রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের পক্ষপাতযুক্ত বেআইনী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এই পক্ষপাতের ধারা ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সুতরাং কমিশন নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

রিজভী বলেন, ওসি ও এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখনই যেভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে তাতে নির্বাচনের দিনে কি পরিস্থিতি হবে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। এতো নিয়মভঙ্গের পরও নির্বাচন কমিশনের চোখ বন্ধ রাখাটা আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে কমিশনের ভূমিকা সারাবিশ্বে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লিখিত হবে। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গত দুইদিন আগে সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন- সারাদেশে কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে না। তবে সিইসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের এধরনের তথ্য মানুষ খুব একটা গ্রাহ্য করছে না এজন্য যে, তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে আওয়ামী লীগ রাস্তাঘাট দখল করে রাস্তার ওপর গেট বানিয়ে, বড় বড় নৌকা টাঙ্গিয়ে রেখেছে। আওয়ামী হার্মাদরা মহাসড়ক দখল করে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড টাঙ্গিয়েছে। কমিশনের নির্দেশে নির্বাচনী কিছু ব্যানার-পোস্টার তুলে ফেলা হলেও নৌকায় হাত দিতে কেউ সাহস পায়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-গোটা নির্বাচন কমিশনই নৌকায় চেপে বসে মাঝ নদীতে ভাসছে কিন্তু কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মীর মো: নাসির উদ্দিন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিছেন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী। মীর নাসির বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর এধরনের বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ বিএনপি নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। ২০০৭ সালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত তার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন, আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জজ আদালতের দন্ডাদেশ স্থগিত করেন, যা এখনো বলবৎ আছে। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মীর নাসিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর সরফত আলী সপু এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটুকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুবদল গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন বাটকে গত পরশু বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু তার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে তারা। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও তার এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল ইসলাম পটুকে গ্রেফতার করা উদ্দেশ্যমূলক ও দূরভিসন্ধিমূলক। আমি অবিলম্বে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া জসিম উদ্দিন বাট নিখোঁজ থাকার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই আটক করে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তার পরিবার এবং দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছে। আমি অবিলম্বে জসিম উদ্দিন বাটকে সুস্থাবস্থায় তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, শনিবার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাটোরের বাসভবনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা চলাকালে আওয়ামী সশস্ত্র সন্তাসীরা সভার ওপর হামলা ও ভাংচুর চালায়। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এছাড়া ফেনী সদর উপজেলায় বেলায়েত হোসেন বাচ্চুকে গ্রেফতার করেছে। ফেনী-২ নির্বাচনী আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের বাসায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করলেও প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর শ্যামপুরে আরিফ আহমেদ রাতুল, কদমতলী থানা বিএনপি নেতা হাফেজ সরকার, মোহাম্মদপুরে ছাত্রদলের মাজহারুল ইসলাম মারুফ, চট্টগ্রাম মহানগরে মোশারফ হোসেন জামাল, মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের শ্যামল, শেরপুরে রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে গ্রেফতার করে এবং গভীর রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে তল্লাশি চালায় ও পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাগেরহাটে যুবদলের এম এ ওয়াহিদকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করে গুরুতর জখম করে। পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের অসত্য ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না

সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না – ছবি : সংগৃহীত

ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান ও জাতীয় নির্বাচনে যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীতপ্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা কিংবা দণ্ডর মেয়াদী দুই বছরের অধিক হলে দণ্ডিত ব্যাক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। অন্যদিকে সাবিরা সুলতানার পক্ষে শুনারিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আখতারুজ্জামান, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রফী, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ।
প্রমূখ। এছাড়াও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজিদ ও মো. খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেন বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পরে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারিক আদালতের দেয়া সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে গত ২৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, সংবিধান অনুসারে ২ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন। তাই হাইকোর্টের এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাবো।

বদির গাড়িতে হামলার ঘটনা ‘‘সাজানো নাটক’’

বদির গাড়িতে হামলার ঘটনা ‘‘সাজানো নাটক’’

বদির গাড়িতে হামলার পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। – ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের আলোচিত-সমালোচিত এমপি আব্দুর রহমান বদির গাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি টেকনাফ থানা পুলিশের ‘বিতর্কিত’ ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি।

কক্সবাজার জেলা বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে টেকনাফ থানা পুলিশের ‘বিতর্কিত’ ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অবিলম্বে প্রত্যাহার চেয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির সভাপতি ও উখিয়া টেকনাফ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ গায়েবি ঘটনা সৃজন করে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করার মিশনে নেমেছেন।

গত শুক্রবার রাতে এমপি বদির গাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহসহ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে আরো একটি মিথ্যা মামলা দরকার, তাই এরকম একটি গায়েবি ঘটনার জন্ম দেয়া হয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী আরো বলেন, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ প্রকাশ্যে সরকারি দলের ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দায়িত্বজ্ঞান ভুলে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছেন। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি হয়ে তিনি নিজেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করেছেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল দমনই যেন এখন তার মূল টার্গেট।

তার দাবি, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় না থাকতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। আমরা যখন নির্বাচনে যাচ্ছি ঠিক তখনই আওয়ামী লীগ তাদের অনুগত প্রশাসনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি ও তার পরিবারের অন্তত ২৫ জন রাষ্ট্রীয় তালিকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশি নিরাপত্তায় এসব মাদক ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে আব্দুর রহমান বদি। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আব্দুর রহমান বদির গাড়িতে হামলার পর তিনি গণমাধ্যমের কাছে তাৎক্ষণিক হামলার জন্য টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে দায়ী করেন। কোনরকম প্রমাণ ছাড়াই তিনি আব্দুল্লাহকে অভিযুক্ত করেন। গণমাধ্যমে তার নাম বলে দেন।

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চাপ দিন

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চাপ দিন

খালেদা জিয়া – ছবি : সংগৃহীত 

ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন সেন্ট্রিস্ট ডেমোক্র্যাট ইন্টারন্যাশনাল (সিডিআই) বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনা প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণের নিন্দা জানিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিকে পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং নিরপেক্ষ ও ন্যায্য গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশ সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সিডিআই নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য বলতে ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে হবে। এতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
একই সাথে নির্বাচনের আগে কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে সিডিআই প্রতিনিধিদল দেখা করার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানে পররাষ্ট্রবিষয়ক ইইউ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আব্যাহত রাজনীতিকীকরণ বন্ধ করা এবং বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ১৯৬১ সালে খ্রিষ্টান ডেমোক্র্যাটস ওয়ার্ল্ড ইউনিয়ন (ডব্লিউইউসিডি) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি নিউ ইন্টারন্যাশনাল টিমস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (ইইউসিডি), খ্রিষ্টান ডেমোক্র্যাট অর্গানাইজেশন অব আমেরিকা (সিডিওএ) এবং খ্রিষ্টান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন অব সেন্ট্রাল ইউরোপের (সিডিসিই) উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হয়। ১৯৯৯ সালে এটি বর্তমান নাম সেন্ট্রিস্ট ডেমোক্র্যাট ইন্টারন্যাশনাল গ্রহণ করে।

১৯৮৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবর্তনের পথ ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে মানবজাতির জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংঘর্ষের সমাপ্তির পর নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সৃষ্টি, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং বিশ্বায়ন শুরু হয়। শান্তি, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সংহতিতে বসবাসের জন্য এই নতুন সহস্রাব্দটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় সম্প্রদায়ের সামনে নতুন সুযোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সিডিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিডিআই নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কলম্বিয়ার আন্দ্রেস পাসস্ট্রা, সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন স্পেনের অ্যান্টোনিও লোপেজে-ইস্তাররিজ। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে রয়েছেনÑ পাবলো ক্যাসাদো (স্পেন), ভিক্টর ওরবান (হাঙ্গেরি), প্যাট্রিস ট্রোভোডা (সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে), আমিন জামায়েল (লেবানন), জেনেস জাঞ্জা (স্লোভেনিয়া), এলমার ব্রক (জার্মানি), সিজার এমএআইএ (ব্রাজিল), হুয়ারি বেনারবা (আলজেরিয়া), ইরা সুস (কম্বোডিয়া), মারিও ডেভিড (পর্তুগাল), লরডেস ফ্লোরেস (পেরু), ইসাইয়া সামাকুভা (অ্যাঙ্গোলা), মার্কো আন্তোনিও অ্যাডাম কাস্টিলো (মেক্সিকো), মিলটন হেনরিকস (পানামা) ও আন্ডারস হেরান্দেজ (কিউবা)। সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ হলেন, হুয়ারি বেনারবা (আলজেরিয়া)

কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেয়া সিডিআইর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত, বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রী ও কর্মীকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মামলায় তাকে বন্দী রাখা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, বিরোধী দলের নেতাদের কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন একটি আইন পাস করেছে, যা সরকারের জন্য তার সমালোচনাকারীদের জেলে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে। সরকার এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নজরদারির মধ্যে আনতে চায়। র্যাব নৃশংসতার জন্য খ্যাত একটি আধা সামরিক সংস্থা। আর নির্বাচনের সময়কালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এটাকেই ব্যবহার করা হতে পারে।
সিডিআইর মতে, সাম্প্রতিক এসব পরিস্থিতি আইন ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন আর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টির পথে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সিডিআই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

ইইউর পররাষ্ট্র বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধির প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে অবিলম্বে বিবৃতি দিয়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সহিংসতা বন্ধ করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে সিডিআই। সংস্থা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় প্রার্থী হত্যার মতো ঘটনা এবং বিরোধীদলীয় কর্মীদের ব্যাপক হারে গ্রেফতার চলছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সিডিআই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিত এবং বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের শর্ত পূরণ করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে। সিডিআই আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহায়তা গ্রহণকারী বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে পূর্ণ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য ইইউর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইইউ যে ৬০ কোটি ইউরো সহায়তা বাংলাদেশকে দিচ্ছে এর মধ্যে গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য সাহায্যও রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও সরকারি মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সিডিআই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছে।

সিডিআই বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় ইইউ মিশন প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছে যে, সিডিআই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং হতাশ হয়েছে এ জন্য যে বাংলাদেশ সরকার পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষককে আসার আমন্ত্রণ জানায়নি। এর পরও দেশটিকে ইইউ আর্থিক সহায়তা দিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। যারা বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিশেষভাবে দেখার জন্য ইইউকে আহ্বান জানিয়েছে সিডিআই।

https://al-insaf24bd.news.blog/2018/12/02/বেতন-ভাতাই-সাহারা-খাতুনে

বেতন-ভাতাই সাহারা খাতুনের একমাত্র আয়ের উৎস!

সাহারা খাতুন। – ছবি: সংগৃহীত 

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারনী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য। নবম ও দশম সংসদে টানা দুবারের এমপি। অবশ্য দশম সংসদে বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতিতে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। বিয়েথা কিছুই করেননি। রাজনীতি করেই জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে হাজির।

সাহারা খাতুনের আয়ের একমাত্র উৎস হলো পারিতোষিক। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান, কৃষিখাত, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, পেশা ও চাকরি থেকে কোনো আয় নেই তার। শুধু উত্তরায় রাজউক থেকে প্রাপ্ত একটি প্লট রয়েছে তার নামে। যার মূল্য ৬৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৪৬ টাকা। মাত্র ৫ তোলা স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দুই হাজার ৫ শ’ টাকা ধরা হয়েছে। ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৬২ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে তার। হলফনামাতে পেশায় নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিলেও বছরে পেশা থেকে কোনো আয় নেই তার।

অন্য দিকে নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ টাকা বলে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিলের হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাহারা খাতুন ঢাকা-১৮ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সাহারা খাতুন হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন, তার তেমন কোনো কিছু নেই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি, অকৃষি জমি, দালান-আবাসিক ও বাণিজ্যিক বা অ্যাপার্টমেন্ট, চাবাগান, মৎস্য খামার কোনো কিছুই নেই। তবে পৈতৃক সূত্রে যৌথ মালিকানায় তার কিছু সম্পদ আছে। বছরে তিনি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা পারিতোষিক পান। আর সেগুলো হলো ৩৪ তেজকুনিপাড়াতে এক লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, ৩৬ তেজকুনিপাড়াতে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দালান, শ্রীপুর, গাজীপুরে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট, আড়াই হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এবং আড়াই হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে তার নিজ নামে।

হলফনামায় সাহারা খাতুন বলেছেন, আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করি নাই। এ ছাড়া আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডাইক্টের বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ওই সব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ঋণ নেইনি। তার নামে কোনো দায়দেনা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ দিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাহারা খাতুনের হলফনামার তথ্যানুযায়ী সে সময় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। মন্ত্রী হিসেবে ভাতা থেকে আয় ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আর সুদ থেকে ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকা ছিল। অস্থাবর সম্পদ ছিল ২১ লাখ ১৬ হাজার ৯০২ টাকার, যানবাহনের মূল্য ছিল ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনের পরই বিএনপি নেতার বাড়ি ভাংচুর

সংবাদ সম্মেলনের পরই বিএনপি নেতার বাড়ি ভাংচুর

 

জয়নাল আবদীন ভিপি – ছবি : সংগৃহীত

ফেনীজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ নেতার গ্রামের বাড়ি বালিগাঁও ইউনিয়নের সুন্দরপুরে শনিবার রাতে হামলা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। সিরাজ নেতা অভিযোগ করেন, ফেনী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপির বাড়িতে শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকায় সরকার দলীয় ক্ষুদ্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, শনিবার রাত পৌঁনে ৯টার দিকে বাচ্চু মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা কামরুলের নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী তার বাড়ি সংলগ্ন ৮-১০টি দোকান ভাংচুর করে। এসময় সন্ত্রাসীরা দোকানের ভাড়াটিয়াদেরকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোকান ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। অন্যথা দোকান অগ্নিসংযোগ করা হবে এবং ভাড়াটিয়াদেরকে প্রাণনাশেরও হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। রোববার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবদীন ভিপি নয়া দিগন্তকে জানান, সংবাদ সম্মেলনের পর সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা তার বাড়ির আশপাশ থেকে কিছুটা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়েছে। রাতে বাড়ির সামনে পুলিশ পাহারা ছিল। তিনি রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিতে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যান। তবে হামলার ভয়ে নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে যাতায়াত করছে না বলে তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনে রদবদলের দাবি অবান্তর : এইচ টি ইমাম

প্রশাসনে রদবদলের দাবি অবান্তর : এইচ টি ইমাম

ইসিতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করছেন এইচ টি ইমাম।

প্রশাসনে রদবদলে বিএনপির দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, তাদের সে দাবি অবান্তর। দলীয় সরকার ক্ষমতায় জেনেই তারা নির্বাচনে এসেছে। প্রশাসনের রদবদলের নামে বিএনপি যা বলছে তাতে পুরো সরকারকেই ওলটপালট করতে হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আওয়ামী লীগের ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে তারা ইসির সাথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে বৈঠক করেন।

এইচটি ইমাম বলেন, বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে এই সরকার ও এই প্রশাসনের নির্বাচনে অংশ নেবে। এখন আবার এই প্রশ্ন কেন। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি সরকার ও ইসিকে উদ্দ্যেশ করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। এ ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী নওফেল, সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, রাশেদুল হক, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাউসার, তানভীর ইমাম, ড. সেলিম মাহমুদ।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার লোভে বিএনপি-জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল : হানিফ

জাতীয় রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি হওয়ার লোভে বিএনপি-জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল : হানিফ

১৭ নভেম্বর ২০১৮

মাহাবুব-উল আলম হানিফ –
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রপতি পদের লোভে সন্ত্রাসী ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাথে হাত মিলিয়েছেন।

হানিফ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক সমীরণ রায়ের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘গত শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সম্পাদকদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে একজন সাংবাদিক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন- আপনারা যদি জয়লাভ করেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? তারা বলেছেন পরে ভেবে দেখবো বা সময় বলে দেবে। জাতির সামনে এটা বলতে তারা লজ্জাবোধ করেছেন। কারণ জাতি জানে তারা যদি জয়লাভ করেন তাহলে তাদের প্রধানমন্ত্রী ওই সন্ত্রাসী একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকেই বানাতে হবে’।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন প্রকাশ্যে এ কথাটা (তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন) বলতে কুণ্ঠাবোধ ও লজ্জাবোধ করছেন বলেই তিনি মুখে বলছেন না। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। তাই এ ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাথেও হাত মেলাতে কুণ্ঠাবোধ করেননি।

নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বলেন, আমরা অবাক হলাম বিএনপি যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটালো, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করার মাধ্যমে- সে বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে ড. কামাল হোসেন সাহেবের একটি শব্দও আমরা দেখিনি। নিন্দাও তিনি করতে পারেননি। তিনি এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশও করেননি।

তিনি আরো বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলো, এ জন্য তিনি বিএনপিকে ধিক্কার জানাননি এবং জাতির কাছে দুঃখও প্রকাশ করেননি। এর মাধ্যমে এটা প্রমাণিত ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে থাকলেও সকল কলকাঠি নড়ে লন্ডন থেকে। ড. কামাল হোসেনও হয়তো লন্ডনের ভয়ে প্রতিবাদ করেননি। অথবা অন্য কোন কিছু লোভে তিনি এ ঘটনার জন্য নিন্দা প্রকাশ বা দুঃখ প্রকাশ করেননি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এই জনধিকৃতরা সামান্য কিছু পাওয়ার লোভে জাতির সাথে প্রতারণা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।’

ড. কামাল হোসেন জাতির সাথে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সাথে যে জোট, সেই ২০ দলীয় জোটের সাথে উনি আঁতাত করে ঐক্যফ্রন্ট করে বলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আমাদের জোট নেই। একটা অদ্ভুত টাইপের মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতির সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

হানিফ বলেন, বিএনপি এখন নেতৃত্ব ভাড়া করেছে। দ্বারস্থ হয়েছেন খ্যাতনামা আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের। কামাল হোসেন সাহেব বিশিষ্ট আইনজীবী এবং আমরা অনেকেই তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। যদিও তার অতীত রাজনীতি এ দেশের জনগণের জন্য কখনো কল্যাণকর ছিল না। বারবারই তিনি জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এমন রেকর্ড নেই।

সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, ঢাকা

রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী শুভ, লেখক সমীরণ রায়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।

আ. লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দিন থেকেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এ উপলক্ষে কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন কাদের। এ ছাড়া তিনি স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর জন্যও একটি ফরম সংগ্রহ করেন।

ফরম সংগ্রহ করতে এসে ওবায়দুল কাদের বলেন, তফসিলের পর আন্দোলন (ঐক্যফ্রন্টের) অযৌক্তিক।

ফরম বিক্রি কত দিন চলবে, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, রোববার দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আটটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। ধানমন্ডিতে দলটির বর্ধিত অফিসের দোতলা ও তৃতীয়তলা থেকে ফরম কিনছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। ফরমের মূল্য ৩০ হাজার টাকা।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এলাকায় নেতা-কর্মীদের ভিড়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এলাকায় নেতা-কর্মীদের ভিড়। ছবি: সুহাদা আফরিন
ফরম বিক্রি উপলক্ষে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এলাকায় বাজছে ব্যান্ড পার্টি। চলছে মিছিল-স্লোগান। এলাকাজুড়ে একটা উৎসব উৎসব আমেজ।

ফরম কিনতে সকাল থেকেই অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলবল নিয়ে ধানমন্ডিতে হাজির হন। তাঁরা একে একে মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আছেন তাঁদের সমর্থকেরা।

মাদারীপুর-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাংসদ বাহাউদ্দিন নাসিম আজই ফরম নেবেন। এ জন্য তাঁর এক সমর্থক মো. শামীম রাতের লঞ্চে মাদারীপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। তিনি জানালেন, বড় মিছিল নিয়ে তাঁরা সাতসকালে ধানমন্ডিতে এসেছেন।

ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ঢাকায় এসেছেন সারওয়ার আলম। তিনি জানালেন, এবার এই আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরা সুলতানা মনি। তাঁর সমর্থনেই এলাকা থেকে এসেছেন তিনি।

দলে দলে মিছিল আসায় ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোড এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধীদের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোট নেওয়া হবে।